মা দিবসে সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দান করেছেন শরীয়তপুরের স্কুলশিক্ষিকা নাছিমা সুলতানা। রাজধানীর সিকেডি ইউরোলজি হাসপাতালে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে সফলভাবে মা-ছেলের কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।
স্বামীকে হারানোর পর ছেলে-মেয়েকে নিয়েই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন নাছিমা সুলতানা। সম্প্রতি বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতির সময় তার ২৮ বছর বয়সী ছেলে নাছিম জাহানের দুটি কিডনিই বিকল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।
ছেলের শারীরিক অবস্থা জানার পর এক মুহূর্ত দেরি না করে নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বহু চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে গত রোববার রাতে তাদের কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। বর্তমানে মা ও ছেলে দুজনই চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম জানান, দেশে কিডনি দাতাদের বড় একটি অংশই মা।
তার হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সেখানে ২৫৩টি কিডনি প্রতিস্থাপনের মধ্যে ৯৮ জন দাতা ছিলেন মা, যা মোট দাতার প্রায় ৩৯ শতাংশ। তিনি বলেন, সন্তানের জন্য মায়েরা সবসময়ই নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসেন। এই ঘটনাও তারই আরেকটি উদাহরণ। একই সঙ্গে তিনি শুধু মা দিবসেই নয়, সবসময় মায়ের প্রতি যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানান।