
লালপুরে ডাস্টারের আঘাতে শিশু তাওহীদের জিহবায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে © সংগৃহীত
নাটোরের লালপুর উপজেলায় শ্রেণিকক্ষের ভেতরে শিক্ষিকার ছোড়া ডাস্টারের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। আহত শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তার অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) উপজেলার ওয়ালিয়া শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীর নাম মো. তাওহীদ (৭)। সে উপজেলার ওয়ালিয়া গ্রামের সোহানুর রহমানের ছেলে এবং স্থানীয় বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে শিক্ষিকা হাফিজা খাতুন কোনো এক পর্যায়ে শিক্ষার্থী তাওহীদের দিকে একটি ডাস্টার ছুড়ে মারেন। সেটি শিশুটির চোয়ালে সজোরে আঘাত করলে তার জিহবা কেটে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়। মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে যায় শিশুটি। পরে সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত অবস্থায় প্রথমে তাওহীদকে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ধুপইল সার্জিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। সেখানে তার অস্ত্রোপচার হচ্ছে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর শিক্ষার্থীর বাবা সোহানুর রহমান অভিযুক্ত শিক্ষিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তিনি বলেন, তার ছেলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষক এভাবে নিষ্ঠুরভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালাতে না পারেন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানান তিনি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত শিক্ষিকা হাফিজা খাতুনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যদের বক্তব্যও জানা সম্ভব হয়নি।