
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ড. কুদরত-ই-খুদা হোস্টেলে নবীন শিক্ষার্থীদেরকে ‘ম্যানার শেখানোর’ নামে গেস্টরুমে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পরে গেস্টরুমে নির্যাতনের মতো গুরুতর অভিযোগ এবারই প্রথম।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, ‘ম্যানার শেখানো’র অজুহাতে রাতভর বসিয়ে রেখে তাদেরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপমানজনক মন্তব্য এবং জোরপূর্বক আচরণ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের গত চার দিন ধরে নিয়মিত রাত সাড়ে ১১টা থেকে গভীর রাত ২টা বা আড়াইটা পর্যন্ত গেস্টরুমে বসিয়ে রাখা হচ্ছে। এ কার্যক্রমে ইনস্টিটিউটের ৪৩তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও অভিযুক্তদের কেউ কেউ বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, সিনিয়ররা এই কার্যক্রমকে ‘ম্যানার শেখানো’ হিসেবে উপস্থাপন করলেও বাস্তবে এটি মানসিক নির্যাতন বা র্যাগিংয়ের শামিল।
তিনি বলেন, নবীনদের বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হয় এবং কথা না শুনলে আরও সিনিয়রদের কাছে তুলে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, গেস্টরুমে নারী সহপাঠীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে, যা তাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জোর করে রাত জেগে সিনিয়রদের সামনে সালাম দেওয়া ও আত্মপরিচয় দেওয়ার মতো তথাকথিত ‘শিষ্টাচার’ পালনেও বাধ্য করা হয়।
জানা গেছে, সাধারণত হোস্টেলের ১০০৩ ও ১০০৪ নম্বর কক্ষে এসব কার্যক্রম চললেও সর্বশেষ রোববার রাতে তা প্রকাশ্যে ডাইনিং রুমে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় ৪৩তম ব্যাচের পাশাপাশি ৪২তম ও আরও সিনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, সেখানে ছাত্রদল সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সিনিয়রও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের একজন মোহাম্মদ আনাস অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না এবং ওই সময় তিনি টিউশনে ছিলেন।
অভিযুক্তদের আরেকজন ইব্রাহিম ‘পরিচিতিমূলক বৈঠক’ হওয়ার কথা স্বীকার করলেও গেস্টরুম বা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত আল মোসাদ্দেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
ড. কুদরত-ই-খুদা হোস্টেলটি শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল-এর সঙ্গে সংযুক্ত।
এ বিষয়ে হল সংসদের সহ-সভাপতি মো. আহসান হাবীব ইমরোজ জানান, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে হল সংসদ ও ডাকসু কর্তৃপক্ষ উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
তিনি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশে চলতে দেওয়া হবে না।”
অন্যদিকে হোস্টেলের ওয়ার্ডেন ড. মো. ফরহাদ আলী বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তার কাছে আসেনি। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।