
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিশমাইল এলাকায় মহাসড়কে গাড়ি আটকিয়ে চাঁদা নেওয়ার সন্দেহে হাইওয়ে পুলিশের পাঁচ সদস্যকে মারধর করেছে বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা। গত ১৯ মার্চ সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে গতকাল রবিবার (৫ এপ্রিল) এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এদিকে এ ঘটনায় বড়দরগা হাইওয়ে পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক শামিদুল্লাহ সরকারসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকেই গত ২ এপ্রিল প্রত্যাহার করে জেলা হাইওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ঘটনার দিন দুটি দূরপাল্লার বাস ওভারটেক করতে গিয়ে সড়কে জট সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা যাত্রীরা ধারণা করেন যে পুলিশ সদস্যরা গাড়ি থামিয়ে চাঁদা আদায় করছেন। এই সন্দেহ থেকে যাত্রীদের সঙ্গে পুলিশের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিক্ষুব্ধ যাত্রীরা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালান এবং তাদের মারধর করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এক পুলিশ সদস্য প্রাণ বাঁচাতে পাশের একটি ডোবায় ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয় লোকজন ও অন্য পুলিশ সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহতদের উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই এলাকায় আগে থেকেই চেকপোস্টে গাড়ির কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ ছিল। তবে ঘটনার দিন পুলিশ চাঁদা নেয়নি।
ঈদের আগে অতিরিক্ত যানজট এবং যাত্রীদের উত্তেজনার কারণে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্ম দেয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি চাঁদা আদায়ের ঘটনা নয়; বরং সড়কে দুর্ঘটনাজনিত পরিস্থিতি ও যানজটের কারণে যাত্রীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন।
ঘটনার পর প্রশাসন সংশ্লিষ্ট পাঁচ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে জেলা হাইওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করেছে এবং একজন সহকারী পুলিশ সুপারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনার প্রায় ১৮ দিন পর পুলিশের পক্ষ থেকে বাস চালক, হেলপার, সুপারভাইজারসহ অজ্ঞাত ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রংপুর হাইওয়ে পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব শামছুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। ওই ঘটনায় আমরা ঘটনাস্থলে থাকা সদস্যদের প্রত্যাহার করেছি। এক সদেস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থান নিয়েছি। বাহিনীর কোনো সদস্য অপরাধ করলে তার দায় নিজের। বাহিনী সেই দায় নেবে না।’