বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যে কোনো বাধা উপেক্ষা করেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে এবং এ ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থই সর্বাগ্রে বিবেচনায় থাকবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোনো চাপ বা হুমকিতে তারা পিছপা হবেন না।
বুধবার বিকেলে নীলফামারীর ডালিয়া ব্যারেজ সংলগ্ন তিস্তার হেলিপ্যাডে আয়োজিত এক নির্বাচনি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা একসময় এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আশীর্বাদ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে আজ তা দুঃখের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে তিস্তার প্রাণ ফিরিয়ে আনা হবে, নদীভাঙন ও শুষ্কতা দূর করা হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, এই নদীকে কেন্দ্র করেই উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে। হাইড্রোপাওয়ার উৎপাদন, কৃষিজমিতে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সুরক্ষা—সবই এই পরিকল্পনার অংশ হবে।
তিনি আরও বলেন, সংকটের মুখে পড়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার রাজনীতিতে তারা বিশ্বাস করেন না। অতীত সরকারগুলোর সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতি ও দমননীতির মাধ্যমে দেশকে বিভক্ত করা হয়েছে এবং জনগণ এখন পরিবর্তন চায়।
উত্তরবঙ্গ দীর্ঘদিন অবহেলার শিকার হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।
ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সৎ ও জনবান্ধব রাজনীতির শক্তিই প্রকৃত ভোটের শক্তি। জনগণের বিজয়ই তাদের লক্ষ্য।
বিচারব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে, যেখানে আইনের চোখে সবাই সমান থাকবে। তরুণদের নেতৃত্বেই একটি উদ্যমী ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহের। এ সময় ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট দুই জেলার সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরাও বক্তব্য রাখেন।