প্রতিবেশীর সঙ্গে এ কেমন নির্মমতা!


 নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিবারের উপর নির্যাতন করে আসছে পার্শ্ববর্তী মজিবর রহমান ও তার স্ত্রী লিপি বেগম ।

হামিদুল ইসলাম বিগত আনুমানিক ১৫ বছর পূর্বে ডোমার উপজেলার নিজ ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডে বসবাস করছেন । দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকালীন পার্শ্ববর্তী মজিবর রহমান কর্তৃক বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছে । এই ব্যাপারে অভিযোগ বরাবর উঠলেও তিনি কোন প্রকার প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী পরিবার ।
২০২১ সালে রাস্তা বন্ধ করার চিত্র
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে ২০২১ সালে মজিবর রহমানের স্ত্রী লিপি বেগম ভুক্তভোগী হামিদুল ইসলামের রাস্তায় বেরিকেট দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেয় । এরপর এলাকাবাসীর অনুরোধে সেটি তুলে দিতে বাধ্য হয় লিপি বেগম । এটিই শেষ নয় পরবর্তীতে একের পর এক চাপ প্রয়োগ করতে থাকে ভুক্তভোগী পরিবারের উপর । স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , মজিবর রহমান ও লিপি বেগম কাজের সূত্রে ঢাকায় থাকেন । ঢাকা থেকে বাসায় ফিরলে পরিবারটির উপর শুরু করে নানাভাবে হয়রানি। গত ১৬/১১/২০২৫ হামিদুল ইসলামের শিশু পুত্র প্রাইমারি স্কুল পড়ুয়া সাদেকিন বিল্লাহ লিপি বেগমের বাসার সামনে দিয়ে গেলে সে তাকে আটক করে মারধর করে এবং তার সাইকেলটি আটকে রাখে । এবং রাস্তায় পুনরায় বেরিকেট নির্মাণ করে । পরবর্তীতে প্রাইমারি স্কুল পড়ুয়া সাদেকীন বিল্লাহ কে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয় । এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করার হলে মীমাংসার নিমিত্তে অভিযুক্তদের ডেকে পাঠান চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ।
অভিযুক্তরা মীমাংসাতে না গিয়ে বরং পুলিশকে হুমকি দেন আমি থানায় নয় থানা আমার বাসায় আসবে । এরই জের ধরে হামিদুল ইসলাম এর বোনকে বেধড়ক মারপিট করে অভিযুক্তরা । এরপর হামিদুল ইসলামের বোন রাবেয়া বেগমকে চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয় । সেখানে দীর্ঘদিন তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন ।

পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধান ব্যার্থ হয়ে পুলিশ মামলা রুজু করে । এবং অভিযুক্ত মজিবর রহমানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করে । পরবর্তীতে আবেদনের প্রেক্ষিতে মজিবর রহমানকে এক মাসের জামিন প্রদান করে আদালত । জামিন পেয়ে মজিবর রহমান নানাভাবে হুমকি প্রদান করে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের। তাদের রাস্তা দিয়ে হাঁটতে না দেওয়া , পার্শ্ববর্তী রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গেলে গালিগালাজ করা। লেলিয়ে দেওয়া এরকম অভিযোগ বরাবরই উঠে আসে ।

স্ত্রীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিচ্ছেন হামিদুল ইসলাম
তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারী) হামিদুল ইসলামকে না পেয়ে তার স্ত্রী শরিফা বেগমের উপর হামলা করে নির্মমভাবে। তাৎক্ষনিক চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় শরিফা বেগমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে প্রেরণ করে । এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রশাসন সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচনাকারীদের সূত্রে জানা যায় দীর্ঘদিন ধরে একটি পরিবার নির্যাতিত হয়ে আসছে সবার স্বচক্ষে দেখার পর। এরপরও এ ব্যাপারে কেন কোন প্রতিকার নেওয়া হচ্ছে না । এভাবে আর কতদিন অনিশ্চিত জীবন যাপন করবে ভুক্তভোগীরা? সাংবাদিকেরা চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আব্দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন " আমরা এ ব্যাপারে অবগত রয়েছি , অভিযুক্তদের ব্যাপারে খুব দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে"
নবীনতর পূর্বতন

Smartwatchs