
চট্টগ্রাম টাইগার পাসে গ্রাফিতি মুছেফেলা নিয়ে দুই দিন ধরে চললমান উত্তেজনার আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে জামায়াত শিবির কর্মীরা। এবার শিবিরের নেতৃত্বে মুছেফেলা গ্রাফিতি গুলো নতুন করে আঁকার কর্মসূচী দিয়ে মাঠে নেমেছে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
সোমবার রাত ১০টার দিকে শহীদ ওয়াসিম উড়াল সড়কের পিলারে ছাত্র শিবিরের নেতৃত্ব “দেয়ালের গ্রাফিতি মোছা যায় কিন্তু হৃদয়ের জুলাই মুছে ফেলা যায় না” এমন একটি গ্রাফিতি আঁকতে দেখাগেছে। এসময় চট্টগ্রাম মহানগর দক্ষিন ছাত্র শিবিরের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুননের নেতৃত্বে বেশ কিছু নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
শিবিরের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন বলেন, শহীদ ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত, ফারুক ও হৃদয় চন্দ্র আমাদের আবেগের জায়গা। কিন্তু চসিক মেয়র ডাক্তার শাহাদাতের মুখে ওয়াসিম আকরাম ছাড়া আমরা কখনো বাকী তিন শহীদের নাম উচ্চারণ করতে শুনিনি। জুলাই শহীদদের নিয়ে তিনি বৈষমাই শুরু করেছেন।
তিনি আরো বলেন, মেয়রের নির্দেশে গ্রাফিতি মুছে ফেলা হয়েছে। আমরা মুছে ফেলা পিলার গুলোতে সকল শহীদদের নাম উচ্চারণ করে তাদের উক্তি গুলো আঁকার চেষ্টা করবো। কাজ শেষ না হলে মঙ্গলবার আবারো কর্মসূচী ঘোষনা করবো।
এদিকে, সোমবার রাতে নগরীর ষোলশহর বিপ্লব উদ্যানে এনসিপির সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ গ্রাফিতি মুছে ফেলার জন্য চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে দায়ী করে বলেন, ‘গ্রাফিতির স্থান বিজ্ঞাপনের জন্য ভাড়া দেওয়ার জন্য মুছে ফেলা হয়েছে।
একই সময় সোমবার রাতে নগর ভবনে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র শাহদাত হোসেন দাবি করেন, তিনি গ্রাফিতি মুছতে নির্দেশ দেন নাই। এটি সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে পিলার থেকে পোস্টার সরিয়ে রঙ করেছে। সেগুলো নতুন করে সুন্দরভাবে চারুকলার ছাত্রদের দিয়ে অংকন করা হবে। সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি নিজে একটি পিলারে গ্রাফিতি অংকন করেন।
মেয়রের বক্তব্যের বিরোধীতা করে মহানগর দক্ষিন শিবিরের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন বলেন, মেয়র যে গ্রাফিতি লিখে কর্মসূচী শুরু করেছেন এটা ছাত্র-জনতার চাপের মুখে পড়ে বাধ্য হয়েছেন করতে।
এর আগে গত দুই দিন ধরে টাইগারপাস মোড়ে গ্রাফিতি মুছেফেলা নিয়ে চরম উত্তেচনা চলছে। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন অধাদেশ ১৩০ ধারা মোতাবেক পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে নগরীর জিইসি মোড় থেকে দেওয়ান হাট পর্যন্ত জনসমাবেশ ও মিছিল-মিটিং ইত্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিলো। দুপুরে শিক্ষার্থী পরিচয়ে ৫০-৬০ জন জড়ো হয়েছিল। পুলিশ তাদের সরে যেতে বললে তারা পুলিশের গায়ে রঙ ছুঁড়ে মারে এবং ধস্তাধস্তি হয়।একপর্যায়ে পুলিশ কয়েকজন হেফাজতে নেয়। পরে আবার ছেড়ে দেয়।
চট্টগ্রামের কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে গ্রাফিতি ইস্যুতে ঘোষনা দিয়ে নতুন করে ছাত্র শিবিরের প্রবেশের বিষয়টিকে ইতিবাচক চোখে দেখছেন না তারা। তাদের ভাবনা, সম্প্রতি সিটি কলেজের গ্রাফিতি ইস্যু নিয়ে সৃষ্ট দাঙ্গার প্রতিশোধ হিসেবে এইটি চট্টগ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করার পায়তারা। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি সবাই জুলাই আন্দোলনের অংশিদার। জুলাই আন্দোলনের সূত্রধরে বিএনপির মতো একটি বড় দল অংশ গ্রহনের কারণেই আওয়ামীলীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে সেটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
তারা আরো বলেন, আপাত দৃষ্টিতে বিগত সময়ে আওয়ামীলীগ যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ আর একাত্তরের চেতনাকে নিজেদের সম্পদ বা একক কৃতিত্ব মনে করতো, হাল সময়ে এসেও জুলাই আন্দোলন এনসিপি আর জামায়াত শিবিরের একক কৃতিত্ব মনে করলে আওয়ামীলীগের সাথে তাদের তফাৎ রইলো কোথায়। তাই জুলাইয়ের স্মৃতির স্বার্থে সকলের উচিত বসে বিষয়টি সমাধান করা।