গাইবান্ধায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও ‘তিশা ফাউন্ডেশন’

 গাইবান্ধায় কোটি টাকা নিয়ে উধাও ‘তিশা ফাউন্ডেশন’

ছবি: সমকাল

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

 প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ | ২০:০৯

গাইবান্ধায় উচ্চ মুনাফা ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে রাতারাতি লাপাত্তা হয়েছে ‘তিশা ফাউন্ডেশন’ নামে একটি কথিত এনজিওর কর্মকর্তারা। এতে বিপাকে পড়েছেন শতাধিক গ্রাহক।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ১০ হাজার টাকা সঞ্চয়ে ১ লাখ এবং ১ লাখ টাকায় ১০ লাখ পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে সংস্থাটির কর্মকর্তারা। সহজ শর্তে ঋণ পাওয়ার আশায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার প্রায় ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে তাদেরকে অর্থ দিয়েছেন।

নির্ধারিত সময়ে ঋণ নিতে এনজিওর কার্যালয়ে গিয়ে গ্রাহকেরা দেখেন, অফিসে তালা ঝুলছে। কর্মকর্তারাও অফিস ছেড়ে চলে গেছে। এরপর থেকেই দিশেহারা হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তারা তাদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পেতে গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

ভুক্তভোগীদের পক্ষে গাইবান্ধা সদর থানায় অভিযোগ করেছেন গাইবান্ধা শহরের সবুজ পাড়ার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী রতন মিয়া। 

তিনি বলেন, গাইবান্ধা পৌর এলাকার গাইবান্ধা-পলাশবাড়ি সড়কের সুখ শান্তির বাজারে অবস্থিত ‘তিশা ফাউন্ডেশন’ নামের একটি এনজিও থেকে ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জসিম মিয়াসহ কর্মকর্তারা এসে ১০ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা করলে ১ লাখ টাকা লোন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে আমি তাদের প্রতিষ্ঠানে ৯২ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা করি। আমার পরিচিত আরও অনেকেই সেখানে লোন পাওয়ার আশায় সঞ্চয় জমা রাখে। লোন দেওয়ার তারিখে গিয়ে দেখি, তাদের অফিসে তালা ঝুলছে। সেখানে শত শত গ্রাহকের কাছে জানতে পারি, প্রতারক চক্রটি শুধু আমাদের কাছেই নয়, তারা জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে লোন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে গেছে। 

ভুক্তভোগী এক গ্রাহকের স্বজন ইমরান হোসেন বলেন, ‘বাড়ি ভাড়া দেওয়ারও তো একটা নিয়ম আছে। যার বাড়িতে এই এনজিও ভাড়া নিয়েছিল তিনি একজন সাবেক সমাজসেবা কর্মকর্তা। অথচ তিনি তাদের নাকি সঠিক পরিচয় জানেন না। এত বড় ক্ষতির দায় এখন কে নেবে?’

এ ব্যাপারে জানতে তিশা ফাউন্ডেশনের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার জসিম মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে। দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

নবীনতর পূর্বতন

Smartwatchs