
দেশে চাহিদামতো গ্যাস আমদানি সম্ভব না হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং লোডশেডিং বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শুক্রবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার মাসুকগঞ্জ এলাকায় বাসিয়া নদী পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এখনো অনেকাংশে গ্যাসনির্ভর। স্থানীয় উৎপাদনের পাশাপাশি আমদানির ওপর নির্ভর করতে হলেও বিভিন্ন কারিগরি জটিলতার কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস আমদানি করা যাচ্ছে না। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হয়ে লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সরকার সংকট নিরসনে কাজ করছে।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডিজেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বাড়ানো হলেও এর প্রভাব সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। সরকার হিসাব-নিকাশ করেই সীমিত আকারে দাম সমন্বয় করেছে।
তিনি জানান, একটি ট্রাক ২০০ কিলোমিটার পণ্য পরিবহন করলে প্রতি কেজি পণ্যে গড়ে প্রায় ৩০ পয়সা ব্যয় বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানি করতে হলেও সরকার চেষ্টা করছে এর প্রভাব যেন সরাসরি জনগণের ওপর না পড়ে।
এ সময় মন্ত্রী জানান, এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়াতে নতুন টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই দরপত্র আহ্বান করা হবে।
বাসিয়া নদী খনন প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৯০হাজার কৃষক উপকৃত হবেন। ২০ হাজার হেক্টর জমিতে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নানা অব্যবস্থাপনা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান সংকট দ্রুত সমাধানে সরকার কাজ করছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াৎ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।