
মালয়েশিয়ায় মানব পাচারকারী এক ভয়ংকর অপরাধী সেলিম জালাল ওরফে মো. জালাল উদ্দিন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা পরিচয় দেয়া সেলিমের মূল কাজ প্রতারণা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই প্রতারকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে , বিগত কয়েক বছর ধরেই এই মানব পাচারকারী শতশত মানুষকে বিভিন্ন পন্থায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মালয়েশিয়ায় নিয়ে আসেন। এরপর তাদের কাছ থেকে আরও টাকার জন্য বন্দী করে রাখেন। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য অনেকে নিজের শেষ সম্বল ভিটেবাড়িও বিক্রি করে দিয়েছে। মালয়েশিয়ায় শ্রমিক নেয়া বন্ধ থাকায় সম্প্রতি মানব পাচার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য আরও বেড়েছে। ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড হয়ে নদীপথ আর জঙ্গল দিয়ে মালয়েশিয়াতে মানুষ ঢুকাচ্ছে পাচারকারীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী জানান, এসব মানব পাচারের হোতা এই সেলিম জালাল। এছাড়া ভিসা নবায়ন করে দেয়ার নামেও শতশত মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা না করে ভুক্তভোগীদের নানান ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এই সেলিমের কারণে এরকম শতশত মানুষ এখন মালয়েশিয়ার বিভিন্ন জঙ্গলে থাকছে, ভয়ংকর সাপ ও বন্যপ্রাণীর সাথে।

মানবপাচারকারী সেলিম জালাল নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিলেও আদৌতে তার কোন বৈধ ব্যবসা নেই। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মানবপাচার ছাড়াও নানান অবৈধ কাজের হোতা এই সেলিম। কিন্তু তার বিলাসবহুল লাইফস্টাইল, জার্মানীর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গাড়ি এসব দেখিয়ে গত কয়েক বছরে অন্তত ১৭জন ব্যক্তির কাছ থেকে নানান পন্থায় মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তথ্য বলছে কারো কারো কাছ থেকে নেয়া টাকার হিসাব কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত। ভুক্তভোগীরা বলছেন, মালয়েশিয়াতেই কয়েকটি বিয়ে করা সেলিম একাজে নিজের স্ত্রীদের ব্যবহার করে। তার এই প্রতারণার ফাঁদে যুক্ত স্ত্রীদের লাইফস্টাইল যেকোন রাজপরিবারের সদস্যদের সাথে তুলনা করা যায়।
সমাজবিজ্ঞানীরা জানান, এ ধরণের প্রতারকদের মানুষকে হিপটোনাইজ করার অসাধারণ ক্ষমতা থাকে, সেকারণে এরা খুবই বিপজ্জনক। সমাজে এদের উপস্থিতি যুব সমাজের স্বাভাবিক বিকাশের পথে বড় বাধা। এই ধরনের প্রতারক চক্রকে সমাজ থেকে আলাদা করতে হবে, সেই সাথে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন যাতে আর কেউ এমন পন্থায় মানুষেরও শোষণ ও প্রতারণা করতে না পারে।
হাই কমিশন থেকে জানানো হয়েছে তার ব্যাপারে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত সেলিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।