যাকাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।

শনিবার বিকালে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের কনফারেন্স রুমে যাকাত কনফারেন্স ২০২৬ এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান মাস্তুল ফাউন্ডেশন এ কনফারেন্সের আয়োজন করে।

আরও দেখুন
মোবাইলে
Politics

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, আমাদের দেশে যারা ধনী আছেন তারা যদি যথাযথ নিয়মে যাকাত দেন এবং সেটা যদি সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা যায় তাহলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে এদেশ থেকে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব। তিনি বলেন, আমরা যাকাতের সুষ্ঠু আহরণ ও বিতরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও বিদেশিদের কাছে হাতপাতার হীন প্রবনতাকে বন্ধ করতে পারি।

ধর্ম উপদেষ্টা আরো বলেন, দারিদ্র্য যেকোনো জাতির জন্য অভিশাপ। একটি রাষ্ট্রের অর্থনীতি যদি শক্তিশালী হয় তাহলে সে রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা বিরাজ করে। দারিদ্র্যতা কোনো রাষ্ট্রকে গ্রাস করলে সে রাষ্ট্র মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না। তিনি অনুষ্ঠানে দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় যাকাত আহরণ ও বিতরণের গুরুত্ব তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা আরো বলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকে কয়েকশত বছর পর্যন্ত যাকাত রাষ্ট্রীয়ভাবে আহরণ ও বিতরণ করা হতো। সুষ্ঠুভাবে যাকাত ব্যবস্থাপনার ফলে হযরত ওমর (রা.)’র খেলাফতের সময় মিশরসহ নানা প্রদেশে যাকাত আহরণ ও বিতরণ করার মতো লোক খুঁজে পাওয়া যেতো না।

আরও দেখুন
মোবাইলে
Politics

ড. খালিদ বলেন, আমাদের দেশে শরিয়াহ আইন অনুপস্থিতির কারণে যাকাত আহরণ ও বিতরণ কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে নি। কেউ ইচ্ছা করলে যাকাত দেন, ইচ্ছা না করলে দেন না। তিনি শরিয়তের বিধান অনুসারে যাকাত আদায়ে সকলকে অনুরোধ করেন।

উপদেষ্টা যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণ এবং মানবিক কার্যক্রমের জন্য মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান।

এ কনফারেন্সে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সাইদুর রহমান খান, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শামছুল আলম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান ও মুফতি জুবায়ের আবদুল্লাহ বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।

এ অনুষ্ঠানে আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক লোক অংশগ্রহণ করেন।