পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) ও বেলুচিস্তান প্রদেশে চালানো দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর পৃথক দুটি গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) ভারত–সমর্থিত ১০ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন শীর্ষস্থানীয় রিংলিডারও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়, ২৪ ডিসেম্বর ডেরা ইসমাইল খান জেলার কুলাচি এলাকায় ফিতনা আল-হিন্দুস্তান সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির তথ্যের ভিত্তিতে একটি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসীদের আস্তানায় কার্যকরভাবে হামলা চালায়। এতে রিংলিডার দিলাওয়ারসহ দুই সন্ত্রাসী নিহত হয়।

আইএসপিআর আরও জানায়, দিলাওয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ছিল এবং একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে তার মাথার দাম ৪০ লাখ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছিল। নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। আইএসপিআরের দাবি অনুযায়ী, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা এবং নিরীহ বেসামরিক মানুষ হত্যাসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল।

এলাকায় অন্য কোনো ভারত–সমর্থিত সন্ত্রাসী লুকিয়ে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পরবর্তীতে তল্লাশি ও স্যানিটাইজেশন অভিযান চালানো হয়েছে বলেও জানায় সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা।

অন্যদিকে, বেলুচিস্তানের কালাত জেলায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে ৮ সন্ত্রাসী নিহত হয়। আইএসপিআর জানায়, ফিতনা আল-হিন্দুস্তান সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে তীব্র গোলাগুলির পর আট সন্ত্রাসী নিহত হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকেও অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।

আইএসপিআর আরও জানায়, ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ নীতির আওতায় নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ গতিতে চলবে এবং বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে কেপি ও বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আফগানিস্তান থেকে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়েও পাকিস্তান উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

এরই মধ্যে ইসলামাবাদ আফগান তালেবান সরকারের কাছে কূটনৈতিক প্রতিবাদলিপি (ডেমার্শ) দিয়েছে। গত ১৯ ডিসেম্বর উত্তর ওয়াজিরিস্তানে এক সন্ত্রাসী হামলায় চার পাকিস্তানি সেনা শহীদ হওয়ার পর আফগান দূতাবাসের উপপ্রধানকে তলব করে পাকিস্তান সরকার।

পাকিস্তান পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আফগান তালেবান সরকারের অব্যাহত সমর্থন ও আশ্রয়ের কারণেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালাতে সক্ষম হচ্ছে। পাকিস্তান তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে বলেও কাবুলকে জানানো হয়েছে।